প্রকাশিত:
১৩ জানুয়ারী, ২০২৬

গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) মিনেসোটা অঙ্গরাজ্য এবং এর বড় দুটি শহর মিনিয়াপোলিস ও সেন্ট পল যৌথভাবে ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করে।
গত ৭ জানুয়ারি মিনিয়াপোলিসে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) এজেন্টের গুলিতে রেনি নিকোল গুড (৩৭) নামে এক নারী নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট-শাসিত এলাকাগুলোতে ২,০০০-এর বেশি অতিরিক্ত সশস্ত্র ফেডারেল এজেন্ট পাঠিয়েছে, যা নজিরবিহীন।
অ্যাটর্নি জেনারেল কিথ এলিসন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ডেমোক্র্যাট–শাসিত এই রাজ্যে ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক অভিবাসন কর্মকর্তাদের ‘তৎপরতা’ জননিরাপত্তাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
অ্যাটর্নি জেনারেলের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে সরাসরি ‘ফেডারেল ইনভেশন’ বা কেন্দ্রীয় আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন - ' মিনেসোটার বৈচিত্র্য ও ভিন্নমতের কারণে আমাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এটা সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।'
ফেডারেল সরকারের এই অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ দাবি করেছে, সরকারি প্রোগ্রামে জালিয়াতি এবং অপরাধী অভিবাসীদের ধরতেই এই অভিযান।
মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনেসোটাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যদি নথিপত্রহীন অভিবাসীদের খুঁজে বের করাই লক্ষ্য হতো, তবে মিনিয়াপোলিস নয়, বরং ফ্লোরিডা বা টেক্সাসের মতো রিপাবলিকান–শাসিত রাজ্যগুলোয় অভিযান চালানো হতো। কারণ, সেখানে নথিপত্রহীন মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি।’
মিনেসোটার পাশাপাশি একই অভিযোগে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যও ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। ওরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডেও ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে দুজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সোমবার মিনিয়াপোলিসের রুজভেল্ট হাইস্কুলের কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্লাস বর্জন করে রাজপথে প্রতিবাদ জানায়।
উত্তেজনাপূর্ণ এই পরিস্থিতির মধ্যেই মিনিয়াপোলিসে আরও কয়েক শ ফেডারেল এজেন্ট পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। অন্যদিকে রেনি গুডের মৃত্যুর প্রতিবাদে শহরটিতে প্রতিদিন শোকসভা ও বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত রয়েছে।
ফেডারেল আদালত যদি মিনেসোটার পক্ষে রুলিং দেয় বা কোনো নিষেধাজ্ঞা (Restraining Order) জারি করে, তবে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি বড় ধরনের ধাক্কা খাবে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস থেকে এখনও অনড় অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।